• মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
চরভদ্রাসনে ১০৫ পিস ইয়াবাসহ নারী আটক। টেকনাফে অপহৃত রোহিঙ্গা তরুণ উদ্ধার, আটক ১ চরভদ্রাসনে মাদকবিরোধী অভিযানে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড চৌহালীতে পল্লী বিদ্যুতের সাব-জোনাল অফিস উদ্বোধন লন্ডনে আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন বগুড়ায় জিয়া সাইবার ফোর্সের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প দুই শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা ডেঙ্গু প্রতিরোধে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির পরিচ্ছন্নতা অভিযান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক ভালো হয়েছে: গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী উপনির্বাচনেও মোতায়েন থাকবে সেনাবাহিনী, ব্যবহার হবে আধুনিক প্রযুক্তি: ইসি ইউপি নির্বাচন আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে শেষ করতে হবে: ইসি সানাউল্লাহ টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ১০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ৩ সেন্টমার্টিনে ১৫০ নিম্ন আয়ের পরিবারের মাঝে কোস্ট গার্ডের ত্রাণ বিতরণ বাংলাদেশিদের জন্য ভিয়েতনামের ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির র‍্যাব বিলুপ্ত করে গেজেট, এসআরবি নামে যাত্রা শুরু রূপনগরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ওসির মতবিনিময় সিরাজগঞ্জে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ রৌমারী উপজেলার প্রখ্যাত আলেম মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক মন্ডল : জীবন ও কর্ম টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে যুবকের আত্মহত্যা আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে কোটালীপাড়ায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কাজিপুরের দুর্গম চরাঞ্চল নাটুয়ারপাড়ায় আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ সুপারের উঠান বৈঠক

গাজীপুর বিআরটিএ তে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হয় না: দালাল চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে

দৈনিক ঢাকা মেইল - DAILY DHAKA MAIL / ১৫২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: শুক্রবার, ৩০ মে, ২০২৫

নিউজ ডেস্ক:গাজীপুর নগরের বোর্ডবাজার এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন (৪২)। পেশায় ট্রাকচালক। ছয় মাস ধরে ড্রাইভিং লাইসেন্স করার জন্য গাজীপুরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) অফিসে যাওয়া-আসা করছেন, কিন্তু লাইসেন্স করতে পারছেন না। গত সোমবার সকালে তাঁর সঙ্গে কথা হয় বিআরটিএ অফিসের সামনে। তিনি বলেন, ছবি ও আঙুলের ছাপ দিয়েছেন। অনেক দিন চেষ্টা করেও লাইসেন্স করতে পারছেন না। পরে সুমন স্যারকে (পরিদর্শক সায়েদুল ইসলাম ওরফে সুমন) পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে লাইসেন্স করে এনেছেন।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে বিআরটিএ অফিসের পরিদর্শক সায়েদুল ইসলাম বলেন, আমি কখনো কারও কাছ থেকে এক টাকা নিয়েছি, এমন প্রমাণ কেউ দিতে পারবেন না। এটি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা।

লাইসেন্স করতে আসা ১২ জনের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তাঁদের প্রায় সবার অভিযোগ, লাইসেন্স করতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে এবং সঙ্গে টাকা না দিলে কোনো কাজই হচ্ছে না। অভিযোগ করে তাঁরা বলেন, চাহিদামতো ঘুষ না দিলে কিংবা দালাল ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে পদে পদে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে লাইসেন্স প্রত্যাশীদের। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা এবং ফিল্ড (মাঠ) টেস্টে পাস করার পর নির্ধারিত ফি জমা পর্যন্ত চলে ঘুষের কারবার। আবার লিখিত পরীক্ষায় ফেল করলেও কর্মকর্তাদের সুপারিশ হলে দিতে হয় না মৌখিক পরীক্ষা ও ফিল্ড টেস্ট।

বিআরটিএ অফিসের দ্বিতীয় তলায় গিয়ে এক দালালকে পাওয়া যায়। তাঁর সঙ্গে আট হাজার টাকা দিয়ে চুক্তি করেছি।
কবির হোসেন, হোতাপাড়া, গাজীপুর সদর।গাজীপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে ভোগান্তির শেষ নেই। ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে একাধিকবার ধরনা দিতে হয় বিআরটিএ অফিসে। টাকা ছাড়া মেলে না গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট। দালাল ধরে টাকা দিলে পরীক্ষা ছাড়াই মেলে ড্রাইভিং লাইসেন্স। ৭ মে ওই অফিসে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এক অভিযানে লাইসেন্স, যানবাহন নিবন্ধন, মালিকানা পরিবর্তন ও ফিটনেস সনদ প্রদানে ঘুষ লেনদেনসহ নানা অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ মিলে।

দুদকের অভিযানে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, সহকারী পরিদর্শক মো. গোলাম সরোয়ার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের আত্মীয় পরিচয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দালালদের মাধ্যমে বিভিন্ন খাত থেকে টাকা নেওয়ার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে।

মহানগরের গাছা এলাকা থেকে পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে আসেন আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘টাকা দিয়ে মোমিন নামের এক দালালের সঙ্গে চুক্তি করেছি।’ তিনি বলেন, ‘আপনি আঙুলের ছাপ আর ছবি তুলে বাড়ি চলে যান, সময়মতো লাইসেন্স পেয়ে যাবেন। তাঁকে ১২ হাজার টাকা দিয়ে বাড়ি চলে যাচ্ছি।’

ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের অভিযোগ, বিআরটিএ গাজীপুর সার্কেলে সক্রিয় আছেন কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ জন দালাল।
গাজীপুর সদর উপজেলার হোতাপাড়া এলাকার বাসিন্দা কবির হোসেন বলেন, ‘আমি একটি অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স করার জন্য আসছিলাম। কিছু বুঝতেছিলাম না। পরে বিআরটিএ অফিসের দ্বিতীয় তলায় গিয়ে এক দালালকে পেয়ে যাই। তাঁর সঙ্গে আট হাজার টাকা দিয়ে চুক্তি করেছি।

লাইসেন্স করার একটি আবেদন ফরম নিয়ে সোমবার গাজীপুর বিআরটিএ অফিসে গেলে রুহুল আমিন নামের এক দালাল প্রতিবেদকের কাছে এসে কথা বলতে শুরু করেন। কিছু সময় পর তিনি বলেন, ‘আপনি অপেশাদার লাইসেন্স করতে চাইলে ৮ হাজার টাকা দিয়ে ছবি ও আঙুলের ছাপ দিয়ে চলে যান। আপনার লাইসেন্স হয়ে যাবে।’ এরপর একে একে আরও বেশ কয়েকজন দালাল এসে ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চান লাইসেন্স করে দেওয়ার জন্য। তাঁদের কাছে জানতে চাইলে বলেন, অফিসের কর্মকর্তা সায়েদুল ইসলাম ওরফে সুমন, শাহ আলম ও কামরুজ্জামানের মাধ্যমে তাঁরা লাইসেন্স করে থাকেন। প্রতিটি লাইসেন্সের জন্য তাঁদের কমপক্ষে দুই থেকে তিন হাজার টাকা করে দিতে হয়।

ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের অভিযোগ, বিআরটিএ গাজীপুর সার্কেলে সক্রিয় আছেন কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ জন দালাল।

গাজীপুর বিআরটিএ কার্যালয়ের সার্কেল সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বিডি মেঘনা নিউজ ২৪ কে বলেন, বর্তমানে সবকিছু অনলাইনে হয়। টাকা জমা হয় ব্যাংকে, ম্যানুয়ালি কিছু করা হয় না। যদি তাঁর অফিসের কেউ টাকা লেনদেন করে থাকেন, প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

BROWSE BY TAG

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com