• শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী। শহীদ গাজীউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনায় শেরপুরের দরিদ্রদের মাঝে ঈদসামগ্রী বিতরণ। গরিব ও দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান ধুনটের চিকাশী ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড মেম্বার প্রার্থী মো: হেলালুর রহমান বাবু বাবার পথেই: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খাল পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন দিনাজপুরে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বদলগাছীতে মানবিক সহায়তার ভিজিএফ চাউল বিতরণ বরিশালে বিএনপির উদ্যোগে দোয়া ও শোকরানা মোনাজাত বিএনপি জনগণের রায়ে বিশ্বাসী, জনগণের জন্য কাজ করে: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি ঢাকা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল, দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশ-এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত আশুলিয়া সাংবাদিক সমন্বয় ক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নওগাঁর বদলগাছীতে বছরের প্রথম বৃষ্টিতেই ইটভাটার সর্বনাশ: ১০ কোটি টাকার কাঁচা ইট নষ্ট — হতাশায় ভাটা মালিকরা চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীর পাড়ে ফসলি জমির মাটি বিক্রির হিড়িক: হুমকিতে কৃষি ও পরিবেশ ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ভাগ করে নেওয়াই প্রকৃত ঈদ — এ্যাডভোকেট শাহানাজ জামান বরিশাল হলিডে স্কুলের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত বদলগাছীতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ১০০ পরিবার পেল ছাগল ও ফ্লোরম্যাট দুলালপুর ইউনিয়ন বিএনপির ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত জিসাস বরিশাল জেলা শাখার উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের নির্বাচনে জাকির সভাপতি ও জাহিদুর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত নরসিংদীর শিবপুরে সৌদি আরবের উপহারকৃত খেজুর বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসায় বিতরণ

গাজীপুর বিআরটিএ তে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হয় না: দালাল চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে

দৈনিক ঢাকা মেইল - DAILY DHAKA MAIL / ১০২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: শুক্রবার, ৩০ মে, ২০২৫

নিউজ ডেস্ক:গাজীপুর নগরের বোর্ডবাজার এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন (৪২)। পেশায় ট্রাকচালক। ছয় মাস ধরে ড্রাইভিং লাইসেন্স করার জন্য গাজীপুরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) অফিসে যাওয়া-আসা করছেন, কিন্তু লাইসেন্স করতে পারছেন না। গত সোমবার সকালে তাঁর সঙ্গে কথা হয় বিআরটিএ অফিসের সামনে। তিনি বলেন, ছবি ও আঙুলের ছাপ দিয়েছেন। অনেক দিন চেষ্টা করেও লাইসেন্স করতে পারছেন না। পরে সুমন স্যারকে (পরিদর্শক সায়েদুল ইসলাম ওরফে সুমন) পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে লাইসেন্স করে এনেছেন।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে বিআরটিএ অফিসের পরিদর্শক সায়েদুল ইসলাম বলেন, আমি কখনো কারও কাছ থেকে এক টাকা নিয়েছি, এমন প্রমাণ কেউ দিতে পারবেন না। এটি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা।

লাইসেন্স করতে আসা ১২ জনের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তাঁদের প্রায় সবার অভিযোগ, লাইসেন্স করতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে এবং সঙ্গে টাকা না দিলে কোনো কাজই হচ্ছে না। অভিযোগ করে তাঁরা বলেন, চাহিদামতো ঘুষ না দিলে কিংবা দালাল ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে পদে পদে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে লাইসেন্স প্রত্যাশীদের। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা এবং ফিল্ড (মাঠ) টেস্টে পাস করার পর নির্ধারিত ফি জমা পর্যন্ত চলে ঘুষের কারবার। আবার লিখিত পরীক্ষায় ফেল করলেও কর্মকর্তাদের সুপারিশ হলে দিতে হয় না মৌখিক পরীক্ষা ও ফিল্ড টেস্ট।

বিআরটিএ অফিসের দ্বিতীয় তলায় গিয়ে এক দালালকে পাওয়া যায়। তাঁর সঙ্গে আট হাজার টাকা দিয়ে চুক্তি করেছি।
কবির হোসেন, হোতাপাড়া, গাজীপুর সদর।গাজীপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে ভোগান্তির শেষ নেই। ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে একাধিকবার ধরনা দিতে হয় বিআরটিএ অফিসে। টাকা ছাড়া মেলে না গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট। দালাল ধরে টাকা দিলে পরীক্ষা ছাড়াই মেলে ড্রাইভিং লাইসেন্স। ৭ মে ওই অফিসে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এক অভিযানে লাইসেন্স, যানবাহন নিবন্ধন, মালিকানা পরিবর্তন ও ফিটনেস সনদ প্রদানে ঘুষ লেনদেনসহ নানা অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ মিলে।

দুদকের অভিযানে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, সহকারী পরিদর্শক মো. গোলাম সরোয়ার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের আত্মীয় পরিচয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দালালদের মাধ্যমে বিভিন্ন খাত থেকে টাকা নেওয়ার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে।

মহানগরের গাছা এলাকা থেকে পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে আসেন আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘টাকা দিয়ে মোমিন নামের এক দালালের সঙ্গে চুক্তি করেছি।’ তিনি বলেন, ‘আপনি আঙুলের ছাপ আর ছবি তুলে বাড়ি চলে যান, সময়মতো লাইসেন্স পেয়ে যাবেন। তাঁকে ১২ হাজার টাকা দিয়ে বাড়ি চলে যাচ্ছি।’

ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের অভিযোগ, বিআরটিএ গাজীপুর সার্কেলে সক্রিয় আছেন কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ জন দালাল।
গাজীপুর সদর উপজেলার হোতাপাড়া এলাকার বাসিন্দা কবির হোসেন বলেন, ‘আমি একটি অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স করার জন্য আসছিলাম। কিছু বুঝতেছিলাম না। পরে বিআরটিএ অফিসের দ্বিতীয় তলায় গিয়ে এক দালালকে পেয়ে যাই। তাঁর সঙ্গে আট হাজার টাকা দিয়ে চুক্তি করেছি।

লাইসেন্স করার একটি আবেদন ফরম নিয়ে সোমবার গাজীপুর বিআরটিএ অফিসে গেলে রুহুল আমিন নামের এক দালাল প্রতিবেদকের কাছে এসে কথা বলতে শুরু করেন। কিছু সময় পর তিনি বলেন, ‘আপনি অপেশাদার লাইসেন্স করতে চাইলে ৮ হাজার টাকা দিয়ে ছবি ও আঙুলের ছাপ দিয়ে চলে যান। আপনার লাইসেন্স হয়ে যাবে।’ এরপর একে একে আরও বেশ কয়েকজন দালাল এসে ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চান লাইসেন্স করে দেওয়ার জন্য। তাঁদের কাছে জানতে চাইলে বলেন, অফিসের কর্মকর্তা সায়েদুল ইসলাম ওরফে সুমন, শাহ আলম ও কামরুজ্জামানের মাধ্যমে তাঁরা লাইসেন্স করে থাকেন। প্রতিটি লাইসেন্সের জন্য তাঁদের কমপক্ষে দুই থেকে তিন হাজার টাকা করে দিতে হয়।

ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের অভিযোগ, বিআরটিএ গাজীপুর সার্কেলে সক্রিয় আছেন কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ জন দালাল।

গাজীপুর বিআরটিএ কার্যালয়ের সার্কেল সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বিডি মেঘনা নিউজ ২৪ কে বলেন, বর্তমানে সবকিছু অনলাইনে হয়। টাকা জমা হয় ব্যাংকে, ম্যানুয়ালি কিছু করা হয় না। যদি তাঁর অফিসের কেউ টাকা লেনদেন করে থাকেন, প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

BROWSE BY TAG

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com