• মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রৌমারী উপজেলার প্রখ্যাত আলেম মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক মন্ডল : জীবন ও কর্ম টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে যুবকের আত্মহত্যা আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে কোটালীপাড়ায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কাজিপুরের দুর্গম চরাঞ্চল নাটুয়ারপাড়ায় আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ সুপারের উঠান বৈঠক সিরাজগঞ্জে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে র‍্যাবের অভিযানে ৪০ গ্রাম হেরোইনসহ যুবক গ্রেপ্তার টেকনাফে মালয়েশিয়ায় পাচারের আগে ৫ ভিকটিম উদ্ধার সিংড়ায় সরকারি সার বিক্রিতে অনিয়ম, ব্যবসায়ীকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা সিরাজগঞ্জে ডি.কে.বি.ইউ ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ কর্মসূচি। সিরাজগঞ্জে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইটভাটা মালিক ও অংশীজনদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। ছোনগাছা ইউনিয়নে দোয়া মাহফিল, মজিবর রহমান লেবুর বৃক্ষরোপণ, গণসংযোগ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। দূষণমুক্ত নদী রেখে যেতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁওয়ে নাগরিক সংবর্ধনায় রাষ্ট্রপতি বললেন, ‘আপনাদের ভালোবাসার ঋণ শোধ করার নয়’ উল্লাপাড়া বিজ্ঞান কলেজের মোমেনা আলী ছাত্রী হল নির্মাণে ৪০ লাখ টাকা অনুদান বেলকুচির যমুনায় উৎসবমুখর পরিবেশে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ কামারখন্দে ২৯৫ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার টেকনাফের বাহারছড়ায় ৭২ ক্যান বিয়ারসহ দেলোয়ার আটক জামালপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে জেলে পরিবারের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ টেকনাফে ২০ হাজার ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি আটক শিবপুরে পুত্রের হাতে পিতা খুন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার

সাতক্ষীরায় সাতটি ব্রিজ ভেঙে বিচ্ছিন্ন ৩০টি গ্রাম

দৈনিক ঢাকা মেইল - DAILY DHAKA MAIL / ১৫০ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: সোমবার, ২৩ জুন, ২০২৫

জি এম শরিফুল ইসলাম সানু সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরার মরিচ্চাপ নদীর ওপর নির্মিত অন্তত সাতটি ব্রিজ ভেঙে পড়েছে। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে আরও কয়েকটি। মাত্র এক থেকে দেড় মাসের ব্যবধানে ব্রিজ সাতটি ভেঙে পড়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সাতক্ষীরা সদর, দেবহাটা ও আশাশুনি উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রাম। জেলা সদরে আসতে ৪ থেকে ১০ কিলোমিটারের পরিবর্তে তাদের পাড়ি দিতে হচ্ছে ২০ কিলোমিটারেরও বেশি। এতে দুর্ভোগের পাশাপাশি সময়সহ খরচও বেড়েছে স্থানীয়দের। তাদের অভিযোগ, ব্রিজ নির্মাণের সময় অনুসরণ করা হয়নি সিএস রেকর্ড। নেওয়া হয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ডের মতামতও। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের এই সমন্বয়হীনতায় কারণে ব্রিজ গুলো ভেঙে পড়েছে।
ভেঙে পড়া ব্রিজগুলো হলো, বাকড়া ব্রিজ, টিকেট ব্রিজ, হিজলডাঙ্গা ব্রিজ, চরগোবিন্দপুর ব্রিজ, শিমুলবাড়িয়া ব্রিজ, ডাড়ার খাল ব্রিজ ও এল্লারচর ব্রিজ। ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে নির্মিত ব্রিজগুলোর দৈর্ঘ্য ১০ মিটার থেকে ১৫ মিটারের মধ্যে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোনটি ভেঙে নদীর মাঝখানে পড়ে আছে। কোনটির এক পাশ পাড়ে ঝুলছে, তো অপর পাশ ভেঙে নদীতে পড়েছে। কোনটির একপাশে বাশ বেধে পার হওয়ার চেষ্টা করছেন কেউ কেউ, কোনটির উপর চলাচলের জন্য তৈরি করা হয়েছে বাশের সাকো।
ব্রিজগুলো ভেঙে পড়ার কারণ অনুসন্ধান করে জানা গেছে, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় যখন এসব ব্রিজ নির্মাণ করে, তখন ভরাট হয়ে সরু খালে পরিণত হয়েছিল মরিচ্চাপ নদী। এরপর ২০২১—২২ ও ২০২২—২৩ অর্থবছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড মরিচ্চাপ নদী পুনঃখননের উদ্যোগ নেয়। এতে নদী ফিরে পায় পুরানো রূপ, বেড়ে যায় প্রস্থ। চাপ বাড়ে জোয়ারের পানিরও। এতে দুই পাশের মাটি সরে গিয়ে ব্রিজগুলো ভেঙে পড়ে।
চরগোবিন্দপুর এলাকার রমজান আলী সরদার বলেন, নদীর তুলনায় ব্রিজগুলো এতো ছোট যে, পানির তোড়ে ভেঙে পড়েছে। শুধু চরগোবিন্দপুর ব্রিজই নয়, এই নদীর সব ব্রিজের একই অবস্থা।
ডাড়ার খাল এলাকার আব্দুল মালেক জানান, ব্রিজগুলো ভেঙে পড়ায় হাটবাজারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে জেলা সদরে যেতে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি। সময়মতো স্কুল—কলেজে যেতে পারছে না তাদের ছেলে—মেয়েরা। একই সাথে ঘের অধ্যুষিত হওয়ায় উৎপাদিত মাছ বাজারে নিয়ে যেতে পারছেন না তারা।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ—বিভাগীয় প্রকৌশলী মুজিয়ুর রহমান বলেন, স্থান ভেদে মরিচ্চাপ নদীর প্রস্থ ৫০ থেকে ৭০ মিটার। কিন্তু এ নদীর উপর নির্মিত ব্রিজগুলো সর্বোচ্চ ২০ মিটার হতে পারে। এতো বড় নদীর উপর এমন ছোট ছোট ব্রিজ টিকবে কিভাবে?
তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন নদী বা খালে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে এনওসি নিতে হয়, যা এসব ব্রিজ নির্মাণের ক্ষেত্রে নেওয়া হয়নি। ব্রিজগুলো যখন নির্মাণ হয়েছে, তখন মরিচ্চাপ নদী ছিল সরু খালের মতো। আমরা নদীর সীমানা অনুযায়ী খনন করেছি। কিন্তু ব্রিজগুলো নদীর সীমানা অনুযায়ী নির্মাণ করা হয়নি।
পাউবোর এই কর্মকর্তার বক্তব্য মিলে যায় একই নদীর উপর এলজিইডি নির্মিত ব্যাংদহা ব্রিজের সাথে। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০২২ সালে নির্মিত এই ব্রিজের দৈর্ঘ্য ৬০ মিটার। নদী খননের পর অন্যান্য ব্রিজ ভেঙে পড়লেও ব্যাংদহা ব্রিজ ঠাই দাড়িয়ে আছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহিনুল ইসলাম বলেন, ব্রিজগুলো ভেঙে পড়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শোয়াইব আহমেদ বলেন, ধসে পড়া সাতটি ব্রিজের মধ্যে চারটি এলজিইডির মাধ্যমে নির্মাণের জন্য এরই মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

BROWSE BY TAG

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com