• মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
আজ পবিত্র শবে বরাত ভোট গণনায় সুযোগ নিতে চাইলে প্রতিরোধ করতে হবে যশোরে— বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুলনার মৃত শিল্পনগরীকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে, যুবকদের জন্য হবে আইটি পার্ক: বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান কাহালু উপজেলার উন্নয়ন ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান — সাবেক ছাত্রনেতা ডলার আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চরভদ্রাসনের দুর্গম চরাঞ্চলে যৌথ টহল জোরদার বদলগাছীতে বিএনপি’র নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত রুমায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে কোনো অপকর্ম ঠেকাতে বিজিবি’র কুইক রেসপন্স ফোর্স প্রস্তুত আছে। বগুড়া–রংপুর সফরে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ধারাবাহিক গণসংযোগ শেরপুর–ধুনট মোড়ে সংক্ষিপ্ত পথসভা বগুড়া-৬ আসনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতবিনিময় সভা। নওগাঁয় ডাম্প ট্রাকের চাপায় ৫ জন নিহত মহাস্থানগড়ে পর্যটকের গলায় ছুরি ঠেকিয়ে ছিনতাই মূল হোতা ইমন গ্রেপ্তার, পলাতক আরও ৩ জন। উৎসবমুখর আয়োজনে শ্রীমঙ্গলে আদর্শ সংগীত বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার সনদ পেল ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষকদের সম্মাননা সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমিরুল ইসলাম খান আলিমের বেলকুচি প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় ধানের শীষে ভোট দিয়ে প্রমাণ করুন—বগুড়ার মাটি বিএনপির ঘাঁটি: তারেক রহমান বেলাবোতে নিখোঁজের ৩ দিন পর সাবেক ছাত্রলীগ নেতার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার নন্দীগ্রামে জিম্মি ইউএনওকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্ধার মহড়া গোপালপুরে ধানের শীষের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত মোল্লাহাটে যৌথ অভিযানে মাদক ও অস্ত্রসহ দুইজন আটক ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের ঘোষণা দিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ভারতে আটক ৫ ট্রলারসহ ১২৮ বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনলো কোস্ট গার্ড

অপসাংবাদিকতার দৌরাত্ম্যে বিপন্ন পেশাদার সাংবাদিকতা

dailydhakamail / ১২৭ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৫

আওরঙ্গজেব কামাল : সাংবাদিকতা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণতন্ত্রের এক অনিবার্য শক্তি। সাংবাদিকতা থাকলেই গণতন্ত্র উজ্জীবিত থাকে। সাংবাদিকতা হারিয়ে গেলে গণতন্ত্র একনায়কতন্ত্রে পরিণত হয় । যে কারণে সাংবাদিকতা একটি মহৎ পেশা হিসেবে স্থায়ী হিসাবেের উপায়। অথচ এ মহান পেশায় আজ অনুপ্রবেশ ঘটেছে অপেশাদার, ভুয়া ও কথিত ‘ফেসবুক সাংবাদিকদের’। কিছু রাজনৈতিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর ইন্ধনে এরা প্রকৃত সাংবাদিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে, অপমান করছে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনাও ঘটছে। একসময় সাংবাদিকতা ছিল সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে প্রতিবাদের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ছিল নির্ভীক কলমের অঙ্গীকার। কিন্তু ডিজিটাল যুগে এই পেশাটি অনেকাংশেই কলুষিত হয়েছে ইউটিউবারধর্মী সাংবাদিকতা ও সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর মিথ্যাচারের মাধ্যমে। ফলে পেশাদার সাংবাদিকরা ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। সাংবাদিকদের হাত ধরেই সৃষ্টি হয় সংবাদপত্র—যা সমাজের দর্পণ ও রাষ্ট্রের পথপ্রদর্শক। অথচ বর্তমানে সাংবাদিকতা অঙ্গন দ্বিধাবিভক্ত। ভুয়া ও সুবিধাবাদী ব্যক্তিদের দৌরাত্ম্যে পেশাদার সাংবাদিকদের মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। অপরাধীদের অনুপ্রবেশ এ সংকটের অন্যতম কারণ। এখন এমনও দেখা যাচ্ছে—চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা কিংবা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরাও রাতারাতি নিজেদের ‘রিপোর্টার’ পরিচয় দিচ্ছে, এমনকি থানায় ঢুকে পড়ছে সাংবাদিকের প্রভাব দেখিয়ে। অনেক মিডিয়া মালিক এসব জানেন তবু নীরব থাকেন, কারণ তাঁরাও কখনো কখনো এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পরোক্ষভাবে যুক্ত। অপরদিকে প্রকৃত সাংবাদিকদের চাকরি, সম্মান ও উপযুক্ত বেতন—সবই ঝুঁকির মুখে। ভুয়া সাংবাদিকদের জন্য তাঁদের প্রতিনিয়ত জবাবদিহি করতে হচ্ছে অযথা সন্দেহের। আজকের বাস্তবতায় সাংবাদিকতা অনেক ক্ষেত্রে পেশা নয়, লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। অশিক্ষিত ও কুশিক্ষিত একটি চক্র নামসর্বস্ব অনলাইন বা আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার তথাকথিত প্রেস কার্ড নিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে ও প্রতারণা করছে। তাদের ফাঁদে পড়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তারা।

অভিযোগ আছে—এই ভুয়া সাংবাদিকদের একটি অংশ প্রকৃত সাংবাদিকদের লেখা প্রতিবেদন কপি করে নিজেদের নামে অনলাইনে প্রকাশ করছে, আবার মোবাইলে ফোন করে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি করছে। কেউ কেউ ‘প্রেস’ লিখিত মোটরসাইকেল ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও চালাচ্ছে। সংগঠিত হয়ে গ্যাং তৈরি করে মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের ঘটনাও বাড়ছে। এতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এসব অপকর্মে সোশ্যাল মিডিয়াও বড় ভূমিকায়। বিশেষ করে ‘সৈরাচারমুক্ত সুবিদাবাদ বিরোধী এক্সপ্রেস’ নামের একটি ফেসবুক পেজের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, ছবি ব্যবহার করে হয়রানি ও চাঁদা দাবি করার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। যারা প্রকৃত সংবাদ পরিবেশন করেছেন বা সরকারবিরোধী দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানে ছিলেন, তাঁদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। এভাবে মিথ্যা প্রচার চালিয়ে পেশাদারদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে সত্য প্রকাশের দায়ে বহু সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন বা হয়রানির শিকার হয়েছেন। বর্তমানে সাহসী সাংবাদিকতা চর্চা ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

পদে পদে বাধা, মামলা, প্রাণনাশের হুমকি এবং মানহানির ভয়ে অনেকে পিছু হটছেন। অভিজ্ঞজনদের মতে, এই সমস্যার মূল কারণ হলো—প্রকৃত সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যের অভাব দেখা দেওয়া। শক্ত কোনো নীতিমালা না থাকা । রাজনৈতিক অপব্যবহার চরম মাত্রায় পৌঁছে যাওয়া।
মিডিয়া মালিকদের দায়হীনতা বাণিজ্যিক মানসিকতা। সোশ্যাল মিডিয়ার অপপ্রচার বা তথ্য সন্ত্রাস বেড়ে যাওয়ায় সরকারের নিরবতা।

আমার মতে,এই সংকট নিরসনে অতি দ্রুত প্রয়োজন—প্রথমত ভুয়া ভুয়া ফেসবুক আইডি, ভুয়া সাংবাদিকদের সনাক্তকরণ ও আইনি ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করা। জাতীয় পর্যায়ে কঠোর গণমাধ্যম নীতিমালা বাস্তবায়ন করা। প্রকৃত সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিতকরণ সরকারের ভূমিকা রাখা। মিডিয়া বা পত্রিকা মালিকদের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করা। পেশাদার সাংবাদিকদের ঐক্য ও সংগঠিত প্রতিরোধ তৈরি করা। তাহলে হয়তো
সাংবাদিকতা আবার সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে—এই প্রত্যাশাই এখন সময়ের দাবি।

লেখক ও গবেষক:
আওরঙ্গজেব কামাল
সভাপতি
ঢাকা প্রেসক্লাব


এই বিভাগের আরও খবর

BROWSE BY TAG

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com