মাসুদ রানা
জামালপুর সংবাদদাতা:–
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রাতের আঁধারে এক জেলে পরিবারের ওপর হামলা, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার দিকে উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের কৃষ্টপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন এবং ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গভীর রাতে আকস্মিক এ হামলার ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ভাটারা ইউনিয়নের কৃষ্টপুর গ্রামের মৃত আব্দুস ছালামের ছেলে শফিকুল ইসলাম (৫৬) এবং পাশের মৃত আব্দুল করিম ব্যাপারীর ছেলে সাদ্দাম হোসেন (৩৫)-এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার দিকে ওই বিরোধের জেরে সাদ্দাম হোসেন লোকজন নিয়ে জেলে পরিবারের সদস্য শফিকুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় হামলাকারীরা ঘরবাড়ি ভাঙচুরের পর আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
এ সময় জেলে পরিবারের আব্দুল গনি (৬০), রওশনারা (৬৫) ও মুমতাজ উদ্দিন (৪০) আহত হন। বর্তমানে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় রোববার দুপুরে ২১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম।
ক্ষতিগ্রস্ত শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমার জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। এ নিয়ে আদালতে মামলা হলে রায় আমার পক্ষে আসে। এরপর থেকেই আমি ওই জমিতে বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস করছি। শনিবার রাত ২টার দিকে হঠাৎ শতাধিক লোকজন নিয়ে আমার বাড়িতে এসে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেন ও অন্যদের বাড়িতে গিয়ে জানতে চাইলে কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, রাতে সাদ্দামসহ কয়েকজন হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটান। এ সময় তারা বিষয়টি নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নিলে ভুক্তভোগীকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
এ ছাড়া সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সন্ত্রাসী কায়দায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলেও স্থানীয়রা দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”