• মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
আজ পবিত্র শবে বরাত ভোট গণনায় সুযোগ নিতে চাইলে প্রতিরোধ করতে হবে যশোরে— বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুলনার মৃত শিল্পনগরীকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে, যুবকদের জন্য হবে আইটি পার্ক: বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান কাহালু উপজেলার উন্নয়ন ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান — সাবেক ছাত্রনেতা ডলার আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চরভদ্রাসনের দুর্গম চরাঞ্চলে যৌথ টহল জোরদার বদলগাছীতে বিএনপি’র নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত রুমায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে কোনো অপকর্ম ঠেকাতে বিজিবি’র কুইক রেসপন্স ফোর্স প্রস্তুত আছে। বগুড়া–রংপুর সফরে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ধারাবাহিক গণসংযোগ শেরপুর–ধুনট মোড়ে সংক্ষিপ্ত পথসভা বগুড়া-৬ আসনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতবিনিময় সভা। নওগাঁয় ডাম্প ট্রাকের চাপায় ৫ জন নিহত মহাস্থানগড়ে পর্যটকের গলায় ছুরি ঠেকিয়ে ছিনতাই মূল হোতা ইমন গ্রেপ্তার, পলাতক আরও ৩ জন। উৎসবমুখর আয়োজনে শ্রীমঙ্গলে আদর্শ সংগীত বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার সনদ পেল ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষকদের সম্মাননা সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমিরুল ইসলাম খান আলিমের বেলকুচি প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় ধানের শীষে ভোট দিয়ে প্রমাণ করুন—বগুড়ার মাটি বিএনপির ঘাঁটি: তারেক রহমান বেলাবোতে নিখোঁজের ৩ দিন পর সাবেক ছাত্রলীগ নেতার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার নন্দীগ্রামে জিম্মি ইউএনওকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্ধার মহড়া গোপালপুরে ধানের শীষের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত মোল্লাহাটে যৌথ অভিযানে মাদক ও অস্ত্রসহ দুইজন আটক ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের ঘোষণা দিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ভারতে আটক ৫ ট্রলারসহ ১২৮ বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনলো কোস্ট গার্ড

মির্জাপুরে অবৈধ কয়লা চুল্লি: জনজীবন ও পরিবেশের জন্য হুমকি।

dailydhakamail / ৪২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক:- টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের ঘাগড়াই গ্রামে অবস্থিত আসলামের ইটভাটার পেছনে অবৈধভাবে কাঠ জ্বালিয়ে কয়লা উৎপাদন করা হচ্ছে। এই কার্যক্রম স্থানীয় মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনের কয়লা উৎপাদনের ধোঁয়া তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে এবং বনাঞ্চল ও জলবায়ুর ভারসাম্যকে বিপন্ন করছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ইয়ার উদ্দিন সিকদারের ছেলে হাসেম সিকদার ও বিল্লাল মিলিতভাবে প্রতিদিন দুইটি অবৈধ কয়লার চুল্লি চালাচ্ছেন। এসব চুল্লিতে কাঠ জ্বালিয়ে কয়লা তৈরি করা হচ্ছে, যার ফলে বনাঞ্চলের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটা হচ্ছে। কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে গজারি, গর্জন, সেগুন, আকাশমনি, পিকরাশিসহ মূল্যবান বনজ গাছ। এসব গাছের অনিয়মিত ও নির্বিচারে ছাঁটাই বনভূমির স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে।

চুল্লি থেকে বের হওয়া কালো ধোঁয়া আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, যা মানুষের শ্বাসনালি, চোখ ও ত্বকের স্বাস্থ্যকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, শিশু, বৃদ্ধ ও নারীদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, চোখে জ্বালা, ত্বকের বিভিন্ন রোগ এবং দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুসের সমস্যার আশঙ্কা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দীর্ঘদিন এই ধরনের ধোঁয়া নিঃশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে শ্বাসনালির সংক্রমণ, ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি এবং অ্যালার্জি সহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

অবৈধ কয়লা চুল্লি থেকে নির্গত ধোঁয়া এবং কাঁচামালের জন্য বনাঞ্চল উজাড় হওয়া পরিবেশের জন্যও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। মির্জাপুর উপজেলার প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ হেক্টর সরকারি বন ভূমি রয়েছে। এই বনাঞ্চলে গজারি, গর্জন, সেগুন, আকাশমনি, পিকরাশিসহ বিভিন্ন মূল্যবান গাছের প্রজাতি রয়েছে, যা স্থানীয় জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, মাটি সুরক্ষা এবং বন্যপ্রাণীর বাসস্থানের জন্য অপরিহার্য। বনাঞ্চল উজাড় হলে মাটির ক্ষয়, বৃষ্টির জল শোষণ কমে যাওয়া এবং নদী ও খাল জলপ্রবাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

এছাড়া, অবৈধ কয়লা চুল্লি স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। ধোঁয়ার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে গিয়ে পড়াশোনা করতে অসুবিধা বোধ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, ধোঁয়া বাতাসে ভরা থাকায় শিশুদের স্কুলে যাওয়া এবং খেলাধুলা করা কঠিন হয়ে গেছে। নারীরা রান্না করতে ও ঘরের কাজ করতে গিয়ে শ্বাসকষ্টের মুখে পড়ছেন, আর বৃদ্ধরা দীর্ঘমেয়াদী হাঁপানি ও অন্যান্য শ্বাসনালি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

এছাড়া, কয়লা উৎপাদনের অবৈধ এই কার্যক্রম স্থানীয় জীববৈচিত্র্যকেও হুমকির মুখে ফেলেছে। বনাঞ্চলে অনেক প্রজাতির পাখি, সাপ, ছিপা ও অন্যান্য প্রাণী বাস করে। বন উজাড় হওয়ায় তাদের অভ্যন্তরীণ বাসস্থান নষ্ট হচ্ছে, খাবারের অভাব তৈরি হচ্ছে এবং প্রাণীর সংখ্যা ক্রমেই কমছে। পরিবেশবিদরা সতর্ক করেছেন, দীর্ঘমেয়াদে বনাঞ্চলের এই ধরনের ক্ষতি পুরো ইকোসিস্টেমকে বিপন্ন করতে পারে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের অবহেলার কারণে কয়লা চুল্লি দীর্ঘদিন ধরে চলমান। “প্রশাসন যদি দ্রুত হস্তক্ষেপ না করে, তাহলে আমাদের জীবনের পরিবেশ ক্রমেই নষ্ট হয়ে যাবে,” জানিয়েছেন এক স্থানীয় যুবক। স্থানীয়রা আরও জানিয়েছেন, বনাঞ্চল ও আবাসিক এলাকা সংলগ্ন এই অবৈধ কার্যক্রম থেকে শুধু স্বাস্থ্য ঝুঁকি নয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতিও হচ্ছে। বনভূমি ও বনায়ন কর্মসূচী দীর্ঘমেয়াদে বনভূমি ও ফলজ গাছের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতো, কিন্তু অবৈধ চুল্লি এই সুযোগকে বিনষ্ট করছে।

মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক আজিজ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “আমি শীঘ্রই ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। অবৈধ কয়লার চুল্লিগুলো বন্ধ করা হবে। বন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে এই চুল্লিগুলো বন্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপই একমাত্র উপায় স্থানীয় মানুষ, বনভূমি এবং পরিবেশের ক্ষতি রোধ করার জন্য।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবৈধ কয়লা চুল্লির কারণে বনাঞ্চল ধ্বংস, জলবায়ু পরিবর্তন, মাটি ক্ষয়, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের হ্রাস, বাতাস দূষণ এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তারা সতর্ক করেছেন, এই সমস্যা দীর্ঘমেয়াদে যদি রোধ করা না হয়, তবে পুরো এলাকায় পরিবেশ ও জনজীবনের ভারসাম্য ভেঙে যাবে।

এলাকার সচেতন মহল অতি দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধ কয়লা তৈরির কারখানা উচ্ছেদ করার জন্য ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর, টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর ও মির্জাপুর উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


এই বিভাগের আরও খবর

BROWSE BY TAG

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com