নিজস্ব প্রতিবেদক:– আজ ১ জানুয়ারি, বগুড়া প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি এবং দেশের একজন প্রখ্যাত প্রবীণ সাংবাদিক মির্জা সেলিম রেজা’র ৬৭তম শুভ জন্মদিন।
সততা, বস্তুনিষ্ঠতা এবং পেশাদারিত্বের মানদণ্ডে দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁর নিষ্ঠা, অধ্যবসায়, মানবিক মনোভাব এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা তাঁকে বগুড়ার সাংবাদিক মহলে একজন সম্মানিত, প্রভাবশালী এবং শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
মির্জা সেলিম রেজা ১ জানুয়ারি ১৯৫৯ সালে বগুড়ার সারিয়াকান্দী উপজেলার জোড়গাছা গ্রামে একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মির্জা আমজাদ হোসেন এবং মাতার নাম সুফিয়া বেগম। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি মেজো সন্তান। পিতার সাংবাদিকতা পেশার প্রভাব এবং পারিবারিক শৃঙ্খলা শৈশবকাল থেকেই তাঁকে সংবাদ, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় বিষয়গুলোর প্রতি মনোযোগী করে তুলেছিল।
গ্রামীণ পরিবেশে শৈশব কাটলেও পারিবারিক মূল্যবোধ, শিক্ষার প্রতি মনোযোগ এবং নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর মানসিক ও নৈতিক বিকাশে গভীর প্রভাব ফেলেছে। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন শান্ত, ভদ্র, মেধাবী এবং অধ্যবসায়ী। প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন স্থানীয় জোড়গাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে।
“পরবর্তীতে তিনি আজিজুল হক ও শাহ্ সুলতান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা লাভ করেন।”
ছাত্রজীবনে মির্জা সেলিম রেজা নিয়মিত পাঠাভ্যাসের পাশাপাশি সাহিত্য, বিতর্ক, সংগীত ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন। দেয়ালপত্রিকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাময়িকীতে লেখালেখির মাধ্যমে তাঁর চিন্তাভাবনা ও প্রকাশভঙ্গি বিকশিত হয়। ছাত্রজীবনের শেষভাগে সাংবাদিকতার প্রতি দৃঢ় আকাঙ্ক্ষা জন্মগ্রহণ করে। পিতার পেশাগত আদর্শ, সমাজের অসংগতি এবং সত্য প্রকাশের দায়বদ্ধতা তাঁকে এই পথ অনুসরণের জন্য অনুপ্রাণিত করেছে।
স্থানীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখির মাধ্যমে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জন করে তিনি সাংবাদিকতা ক্ষেত্রে নিজেকে একজন দায়িত্বশীল ও পেশাদার ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সমাজের নানা গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক, রাজনৈতিক ও মানবিক বিষয় উন্মোচন করেছেন এবং পাঠকমহলে আস্থা, সম্মান ও বিশ্বাস অর্জন করেছেন।
মির্জা সেলিম রেজা সর্বদা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে বিশ্বাসী। তিনি সাংবাদিকতার মাধ্যমে সমাজের অবহেলিত ও সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। নানা জটিল পরিস্থিতিতে অবিচল থাকাটা এবং সততার সঙ্গে সংবাদ পরিবেশন করা তাঁর কর্মজীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এই কারণে তিনি বগুড়ার সাংবাদিক সমাজে এক অনন্য মর্যাদা ও প্রভাব অর্জন করেছেন।
বর্তমানে তিনি বগুড়া প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নেতৃত্ব এবং পেশাদার মনোভাব প্রেসক্লাবের বিভিন্ন কার্যক্রমকে প্রগতিশীল ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। তিনি নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য এক দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করছেন, যাদের মধ্যে সততা, নৈতিকতা এবং দায়িত্বশীলতার শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি পেশাগত নৈপুণ্য অর্জনের পথও সুগম করছেন।
প্রবীণ সাংবাদিক মির্জা সেলিম রেজার ৬৭তম জন্মদিন উপলক্ষে দেশব্যাপী সাংবাদিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাঁকে দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য এবং আরও শক্তিশালী, সক্রিয় ও আলোকিত সাংবাদিক জীবন কামনা করা হয়েছে। সকলেই আশা করেছেন যে, তিনি ভবিষ্যতেও সমাজের সত্য, ন্যায্যতা ও মানবিক মূল্যবোধকে তুলে ধরার জন্য একই নিষ্ঠা ও উদ্যমের সঙ্গে কাজ করবেন।
মির্জা সেলিম রেজার জন্মদিন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জনের দিন নয়, এটি বগুড়া এবং দেশের সাংবাদিক সমাজের জন্যও এক বিশেষ দিন। দীর্ঘ কর্মজীবন জুড়ে তিনি যে পেশাদারিত্ব, সততা এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রদর্শন করেছেন, তা নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। সমাজের নানা অসংগতি, অবহেলা ও অন্যায়কে তুলে ধরতে তিনি যে সততা এবং বদ্ধপরিকর মনোভাব দেখিয়েছেন, তা তাঁকে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
সর্বশেষে, প্রবীণ সাংবাদিক মির্জা সেলিম রেজার ৬৭তম জন্মদিনে তাঁর প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। সকলেই তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং সাংবাদিকতায় আরও সমৃদ্ধ ও আলোকিত ভূমিকা পালনের জন্য কামনা করেছেন। তিনি বগুড়ার সাংবাদিক সমাজের জন্য আজও এক দৃষ্টান্ত, যিনি সততা, পেশাদারিত্ব এবং মানবিক মূল্যবোধের মেলবন্ধন তৈরি করেছেন।