• মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
কাহালু উপজেলার উন্নয়ন ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান — সাবেক ছাত্রনেতা ডলার আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চরভদ্রাসনের দুর্গম চরাঞ্চলে যৌথ টহল জোরদার বদলগাছীতে বিএনপি’র নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত রুমায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে কোনো অপকর্ম ঠেকাতে বিজিবি’র কুইক রেসপন্স ফোর্স প্রস্তুত আছে। বগুড়া–রংপুর সফরে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ধারাবাহিক গণসংযোগ শেরপুর–ধুনট মোড়ে সংক্ষিপ্ত পথসভা বগুড়া-৬ আসনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতবিনিময় সভা। নওগাঁয় ডাম্প ট্রাকের চাপায় ৫ জন নিহত মহাস্থানগড়ে পর্যটকের গলায় ছুরি ঠেকিয়ে ছিনতাই মূল হোতা ইমন গ্রেপ্তার, পলাতক আরও ৩ জন। উৎসবমুখর আয়োজনে শ্রীমঙ্গলে আদর্শ সংগীত বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার সনদ পেল ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষকদের সম্মাননা সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমিরুল ইসলাম খান আলিমের বেলকুচি প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় ধানের শীষে ভোট দিয়ে প্রমাণ করুন—বগুড়ার মাটি বিএনপির ঘাঁটি: তারেক রহমান বেলাবোতে নিখোঁজের ৩ দিন পর সাবেক ছাত্রলীগ নেতার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার নন্দীগ্রামে জিম্মি ইউএনওকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্ধার মহড়া গোপালপুরে ধানের শীষের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত মোল্লাহাটে যৌথ অভিযানে মাদক ও অস্ত্রসহ দুইজন আটক ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের ঘোষণা দিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ভারতে আটক ৫ ট্রলারসহ ১২৮ বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনলো কোস্ট গার্ড রাজশাহী পৌঁছে শাহ মখদুমের মাজার জিয়ারত করলেন তারেক রহমান টাঙ্গাইলে প্লাস্টিক তেল তৈরি কারখানা উচ্ছেদ, মেটাল কারখানায় জরিমানা। মোংলায় নৌ পুলিশের স্পিড বোটে আগুন, আহত ১

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল জোনে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে চলছে অবৈধ বহুতল ভবন নির্মাণ: কউক’র রহস্যজনক নীরবতা।

দৈনিক ঢাকা মেইল - DAILY DHAKA MAIL / ৯৬ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

লোকমান ইসলাম রানা: কক্সবাজার শহরের হোটেল-মোটেল জোন সৈকতপাড়া এলাকায় স্বৈরাচার-দোসর-নব্য বিএনপি নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে দেদারছে চলছে অবৈধ বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আইকনিক ভবনের খুব কাছেই পাহাড় কেটে একের পর এক বহুতল দালান উঠলেও রহস্যজনক কারনে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না তারা। বরং কউক’র রহস্যজনক নীরবতা জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় লোকজন ও সংশ্লিষ্টরা জানান, কক্সবাজারে শত শত অবৈধ বহুতল ভবন নির্মানের বিরুদ্ধে কউকের বিমাতাসুলভ আচরন দৃশ্যমান। তাদের অভিযোগ, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এসব অবৈধ ভবনে অভিযানের নামে প্রথমে একটা নোটিস দিয়ে মোটা অংকের ঘুস দাবী করে। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আদায় করেন তারা। যেসব ভবন মালিক কউক’কে খুশি করতে পারে, তাদের ভবন বীরদর্পে উঠে যায় আর যেসব ভবনের মালিক চাহিদামত ঘুস দিতে ব্যর্থ হয় তাদের ভবনে বুলডোজার চালানো হয় বলে জনশ্রুতি রয়েছে। যার কারনে কউকের এই দ্বীমুখি আচরন এখন কক্সবাজারে ওপেন সিক্রেট। যার ফলে কক্সবাজারে কালো টাকার মালিকরা কউক’কে ম্যানেজ করে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে সরকারী পাহাড় কেটে একের পর এক অনুমোদনহীন বহুতল ভবন নির্মাণ করে চলেছে।অনুসন্ধানে জানা যায়, পর্যটন জোন কলাতলীতে প্রতিযোগিতা দিয়ে একের পর এক অবৈধ ভবন নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর কক্সবাজার শহরে স্বৈরাচার আওয়ামী সমর্থক নেতা ও নব্য বিএনপি নেতাদের সমন্বয়ে গড়ে উঠা সিন্ডিকেটের অধীনেই চলছে এসব অবৈধ ভবন নির্মান কর্মকান্ড। কোথাও পাহাড় কেটে, কোথাও সড়ক দখল করে চলছে এসব ভবণ নির্মান। অনেকে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মৌখিক অনুমতি নিয়েই খাস খতিয়ানভুক্ত জায়গায় নির্মান করছে বহুতল ভবন। শুধুমাত্র কলাতলির সৈকত পাড়া মসজিদের দক্ষিণ পাশের পাহাড়ের লাগোয়া জায়গায় গড়ে তোলা হচ্ছে ৫/৬ তলা বিশিষ্ট ৪ টি ভবন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন দুর্ণীতিবাজ কউক কর্মকর্তা, চাঁদাবাজ ও কথিত সাংবাদিকদের ম্যানেজ করেই এসব অপকর্ম চালানো হচ্ছে। এসব ম্যানেজ করার জন্যও রয়েছে উক্ত সিন্ডিকেটের উপ-টীম । সূত্র মতে, কলাতলির বিশেষ এলাকাকে ইসি এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হলেও কেউ মানছেনা এই আইন। ভবন তৈরীতে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) ও জেলা প্রশাসন এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঠিক অনুমতির ও প্রয়োজন মনে করছেন না প্রভাবশালীরা। সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, সৈকত পাডা জামে মসজিদের দক্ষিণ পাশেই আবাসিক হোটেল রিগ্যাল হোমের অল্প দুরত্বে খাস খতিয়ানভুক্ত পাহাড়ি জায়গায় নির্মাণ করা হচ্ছে একটি বহুতল ভবন। ইতিমধ্যে ভবনটি ছয়তলা পর্যন্ত ছাদ ঢালাই করা হয়েছে। সৈকত পাড়া এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানায়, এই ছয়তলা ভবনটি নির্মাণ করেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ৪-৬জন দোকানদার। উক্ত দোকানদাররা জানান, এ ভবনটি দোকান মালিক সমিতির আন্ডারে করা হচ্ছে, এবং উক্ত এলাকার সমাজ কমিটির সদস্য অবগত আছে এবং তারা দেখাশোনাও করে বলে জানান উক্ত ভবন নির্মাণ কারীরা। উক্ত নির্মাণাধীন ভবনের টিক সামনে অবস্থিত চা দোকানদার ভুট্টো জানান, উক্ত ভবন নির্মানের জন্য কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিয়েছে। তাছাড়া সাংবাদিক পরিচয়ে কয়েকজন এসে খরচের টাকাও নিয়ে গেছে। এখানে মালিক পক্ষের কেউ নেই। এবং উক্ত ভবটি সমাজের অন্তর্ভুক্ত একটি সমিতির উদ্যোগে নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিবেদককে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “যদি আপনার কোন বিষয় জানার থাকলে আমাকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন”। পরিবেশ অধিদপ্তর ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ভবনটি নির্মাণের বিষয়ে অবগত বলেও দাবী করেন করেন এ দোকানদার। অন্য দিকে ঠিক একই গলিতে দুইশো গজের মধ্যে রয়েছে ম্যারিন পার্ক কটেজ। এই ভবনটি দুই তলা বিশিষ্ট হলেও সরকার পরিবর্তনের সুযোগে ৫ তলা পর্যন্ত কাজ চলমান রয়েছে। গত ১ মাসের মধ্যে ৪ টি ছাদ ঢালাই শেষ করেছে কটেজের মালিক। এখানেও রয়েছে কউক ও সাংবাদিক ম্যানেজের কথা বলে একটি টাকা হাতিয়ে নেয়া মধ্যসত্বভোগী দল। উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কতিপয় কর্মকর্তা ভবণ নির্মাণের খবর জানার পরেও অজ্ঞাত কারণে চুপ রয়েছেন বলে দাবি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। কতিপয় কর্মকর্তা ভবন নির্মাণস্থল পরিদর্শনে এসে ম্যানেজ হয়ে ফিরে গেছে বলে জানিয়েছেন একাধিক সূত্র। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সুগন্ধা পয়েন্টের পূর্ব পাশে সৈকতপাড়া এলাকায় বীনা বাঁধায় চলছে একাধিক অবৈধ বহুতল ভবনের নির্মান কাজ। গেল কয়েক বছর ম্যারিন পার্ক কটেজটি বহুতল করার চেষ্টা ব্যর্থ হলেও গত কয়েক মাসের মধ্যেই উঠে গেছে পাঁচ তলা ভবন। কউক’কে ম্যানেজ করে এসব ভবন নির্মাণ করছে বলে দাবি করেছেন অনেক ভবন মালিক। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, শুধুমাত্র সৈকতপাড়া মসজিদ এর পেছনের গলিতে আধা কিলোমিটার এর মধ্যেই গড়ে উঠছে অর্ধ ডজন অবৈধ ভবন। গণপূর্তের নির্মিত শিশু উদ্যানের পিছনের গলিতেই গেলে দেখা মেলে এসব অবৈধ ভবন নির্মাণের হিড়িক। ভবন মালিকের অনেকেই নিজেদের নিবন্ধিত জায়গায় নির্মাণের দাবি করলেও প্রকৃতপক্ষে এসব জায়গা খাস খতিয়ানভুক্ত। এ ব্যাপারে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোঃ সালাউদ্দিন সম্প্রতি প্রতিবেদককে জানান, “ওই লোকেশনে অবৈধ ভবণ নির্মাণের বিষয়টি আমাকে কেউ অবগত করেনি। আমি ওখানে একটি টিম পাঠাবো। তারা খবরা-খবর নিয়ে অবৈধ হলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমি কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। সর্বোচ্চ সততা এবং পেশাদারিত্বের মধ্যেই আমি কাজ চালিয়ে যাব। তবে কউক চেয়ারম্যানের এই বক্তব্যের পরে উক্ত এলাকার কয়েকটি অবৈধ নির্মানাধীন ভবনে কয়েকটি নোটিশ দিলেও এসব অবৈধ ভবনের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ , প্রকৃতপক্ষে সৈকতপাড়া এলাকার কোন ভবনেই কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেই। উক্ত এলাকায় ইতিপূর্বে নির্মিত শতাধিক বহুতল ভবন কউক, জেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই করা হয়েছে। কলাতলীর সাতটি পয়েন্টে সুযোগ বুঝেই নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধ ভবন মালিকরা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নির্মাণ করা হচ্ছে সৈকত পাডা মসজিদ সংলগ্ন পেছনের গলির উভয় পাশের এক কিলোমিটার জায়গায়। কেউ একতলা ভবনকে পাঁচ তলায় রূপান্তর করছে, আবার অনেকেই নতুন করে বহুতলভবন নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারি জায়গায় এবং সম্পূর্ণ পাহাড়ের সাথে লাগোয়া কিভাবে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে সেটি অনেকের কাছে বিস্ময়। অনেকটা প্রতিযোগিতা দিয়েই চলছে এসব ভবন নির্মাণের কাজ। অনেকের অভিযোগ, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র স্মরণ আবাসিক এলাকার মধ্যেই নজরদারি বাড়িয়ে ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু সৈকত পাড়ার আশপাশ এলাকায় গণহারে উঠছে অবৈধ স্থাপনা। তারা বলেন, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিস্প্রভ ভূমিকার কারণে সহজেই এসব অবৈধ ভবন নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালীরা। উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরকে ম্যানেজ করার জন্য রয়েছে একটি সিন্ডিকেট। ঐ সিন্ডিকেট প্রতিটি ভবন থেকে গণহারে চাঁদাবাজি করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

BROWSE BY TAG

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com