• শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
সংবাদ প্রকাশের জেরে জাতীয় সাপ্তাহিক ‘তদন্ত রিপোর্ট’-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদকসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা: (B.C.P.C)-এর তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ। জনসেবার প্রতিশ্রুতিতে এগিয়ে আবু সাঈদ (বাবু), কেন তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান ভোটাররা? সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হারুন আল রশীদ আর নেই। ভারত-বাংলাদেশের সুপরিচিত বিশিষ্ট কবি, সম্পাদিকা, প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, কণ্ঠশিল্পী ও ছড়াকার মাধুরী ব্যানার্জীর লেখা অণুগল্প “নিস্তব্ধ মনের ব্যালকনি” উলিপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির নবনির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর নামাজের ইমামতি করতে গিয়ে পালিয়ে যাওয়া পরোয়ানাভুক্ত আসামি গোলাম আজম পুনরায় গ্রেপ্তার হঠাৎ বিশ্বজুড়ে ফেসবুক ডাউন। জাতীয় মানবাধিকার অ্যাসোসিয়েশন বগুড়া কমিটির উদ্যোগে সদস্যদের মাঝে আইডি কার্ড ও টি-শার্ট বিতরণ পুলিশ প্রটোকল ছাড়াই ব্যক্তিগত গাড়িতে আমিনবাজার-আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেল পরিদর্শনে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলায় সোহেল রানা এবং স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড। মানবাধিকার সংগঠনের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সংস্কারের দাবি সেহলী পারভীনের ইউএনওকে ‘আপা’ সম্বোধন করায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা। ডি-ফ্যাব নেতার অসুস্থ পিতাকে দেখতে হাসপাতালে এম-ট্যাব বগুড়া আঞ্চলিক কমিটির নেতৃবৃন্দ “ঈদের সৌহার্দ্যে ঐক্যের বার্তা: শাজাহানপুর বিএনপি নেতাদের সঙ্গে জেলা জিসাসের মতবিনিময়” শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীতে মাজার জিয়ারত ও শ্রদ্ধাঞ্জলি শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ। পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মানবাধিকার ও সাংবাদিক নেতা সেহলী পারভীন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে এম-ট্যাব ও বিএমটিএ বগুড়া জেলা শাখার নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের সঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার অ্যাসোসিয়েশনের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় গাজীপুরে খাবার দেওয়ার কথা বলে শিশুকে ধর্ষণ, ফুফা গ্রেপ্তার ১৪ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে খালু আলমগীর হোসেন আটক।

আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়ের সমাপ্তি

dailydhakamail / ৮৯ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬

 

স্টাফ রিপোর্টার :
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আপোষহীনতা, সংগ্রাম ও গণতন্ত্র রক্ষার এক অবিচল প্রতীক ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারপার্সন ও ‘আপোষহীন দেশনেত্রী’ হিসেবে পরিচিত এই মহীয়সী নারী ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোর ৬টায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

তাঁর ইন্তেকালে দেশজুড়ে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া।
রাজনীতির কঠোর মঞ্চে যিনি ছিলেন দৃঢ়, অনমনীয় ও আপসহীন—ব্যক্তিগত জীবনে সেই খালেদা জিয়াই ছিলেন অত্যন্ত সাধারণ, শান্ত ও অনাড়ম্বর। তাঁর জীবন কেবল একজন রাষ্ট্রনায়িকার গল্প নয়; এটি এক স্ত্রী, এক মাতা ও এক সংগ্রামী নারীর দীর্ঘ আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার ইতিহাস।

এই মহীয়সী নেত্রীর জীবন, রাজনৈতিক সংগ্রাম ও গণতন্ত্র রক্ষায় অবদান নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী বক্তব্য তুলে ধরেন জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন (জিসাস) বগুড়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এম-ট্যাব) আঞ্চলিক জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক ছাত্রনেতা, বিশিষ্ট সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও সমাজসেবক মোঃ আরমান হোসেন ডলার।

সাধারণ জীবন থেকে রাষ্ট্রনায়িকা
১৯৪৫ সালে জন্মগ্রহণ করা বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একেবারেই সাধারণ ঘরোয়া জীবনের মানুষ। ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হলে তিনি দেশের ফার্স্ট লেডি হিসেবে পরিচিতি পান। একজন দায়িত্বশীল স্ত্রী ও স্নেহময়ী মা হিসেবেই তাঁর জীবনের বড় অংশ কেটেছে।
কিন্তু ১৯৮১ সালের ৩০ মে স্বামী জিয়াউর রহমান এক সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হলে তাঁর জীবনে নেমে আসে গভীর অন্ধকার। তবুও শোককে শক্তিতে রূপ দিয়ে তিনি দাঁড়িয়ে যান দেশের মানুষের পাশে।

রাজনীতিতে পদচারণা ও নেতৃত্ব
১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। সামরিক শাসক এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ১৯৮৪ সালের ১০ মে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন। তাঁর নেতৃত্বেই বিএনপি একটি পূর্ণাঙ্গ ও শক্তিশালী রাজনৈতিক দলে রূপ নেয়।
এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সাত দলীয় জোট গঠন, কারাবরণ, নির্যাতন—সবকিছুই তিনি সহ্য করেছেন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। দীর্ঘ আন্দোলনের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে তিনি পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবকটিতেই বিজয়ী হন।

কারাবরণ, নির্যাতন ও অসুস্থতা
বিভিন্ন সময় তিনি মোট পাঁচবার আটক হন। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এবং ২০১৮ সালে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দুর্নীতির মামলায় কারাবরণ করেন। দীর্ঘ সময় কারাগার ও গৃহবন্দি অবস্থায় থেকেও তিনি মনোবল হারাননি।
দীর্ঘস্থায়ী কিডনি, লিভার জটিলতা, ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে ভুগেও তিনি দেশের রাজনীতি থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করেননি। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ গমন ও পরবর্তীতে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রাষ্ট্রীয় সম্মান ও শেষ বিদায়
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি মুক্তি পান। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা, গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে ওঠে তাঁর জানাজা—বাংলাদেশ ও মুসলিম বিশ্বে এত মানুষের অংশগ্রহণ বিরল দৃষ্টান্ত।
পরদিন তাঁকে জিয়া উদ্যানে তাঁর স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।

ইতিহাসে চিরভাস্বর
বেগম খালেদা জিয়া কোনো সাধারণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন। তিনি আপোষহীন নেতৃত্ব, মমতাময়ী মানবিকতা ও আত্মত্যাগের এক উজ্জ্বল নাম। নিজের পরিবার, সুখ ও স্বস্তি বিসর্জন দিয়ে তিনি আজীবন দেশের মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষায় লড়াই করে গেছেন।
আজ রাজনীতির মঞ্চে তিনি অনুপস্থিত, কিন্তু ইতিহাসের পাতায় তিনি চিরকাল থাকবেন—
একজন আপোষহীন দেশনেত্রী, এক সংগ্রামী নারী ও বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে।
হে মহান আল্লাহ, তুমি এই মহীয়সী নেত্রীকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব কর। আমিন।।


এই বিভাগের আরও খবর

BROWSE BY TAG

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com