• শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
সংবাদ প্রকাশের জেরে জাতীয় সাপ্তাহিক ‘তদন্ত রিপোর্ট’-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদকসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা: (B.C.P.C)-এর তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ। জনসেবার প্রতিশ্রুতিতে এগিয়ে আবু সাঈদ (বাবু), কেন তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান ভোটাররা? সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হারুন আল রশীদ আর নেই। ভারত-বাংলাদেশের সুপরিচিত বিশিষ্ট কবি, সম্পাদিকা, প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, কণ্ঠশিল্পী ও ছড়াকার মাধুরী ব্যানার্জীর লেখা অণুগল্প “নিস্তব্ধ মনের ব্যালকনি” উলিপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির নবনির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর নামাজের ইমামতি করতে গিয়ে পালিয়ে যাওয়া পরোয়ানাভুক্ত আসামি গোলাম আজম পুনরায় গ্রেপ্তার হঠাৎ বিশ্বজুড়ে ফেসবুক ডাউন। জাতীয় মানবাধিকার অ্যাসোসিয়েশন বগুড়া কমিটির উদ্যোগে সদস্যদের মাঝে আইডি কার্ড ও টি-শার্ট বিতরণ পুলিশ প্রটোকল ছাড়াই ব্যক্তিগত গাড়িতে আমিনবাজার-আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেল পরিদর্শনে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলায় সোহেল রানা এবং স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড। মানবাধিকার সংগঠনের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সংস্কারের দাবি সেহলী পারভীনের ইউএনওকে ‘আপা’ সম্বোধন করায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা। ডি-ফ্যাব নেতার অসুস্থ পিতাকে দেখতে হাসপাতালে এম-ট্যাব বগুড়া আঞ্চলিক কমিটির নেতৃবৃন্দ “ঈদের সৌহার্দ্যে ঐক্যের বার্তা: শাজাহানপুর বিএনপি নেতাদের সঙ্গে জেলা জিসাসের মতবিনিময়” শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীতে মাজার জিয়ারত ও শ্রদ্ধাঞ্জলি শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ। পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মানবাধিকার ও সাংবাদিক নেতা সেহলী পারভীন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে এম-ট্যাব ও বিএমটিএ বগুড়া জেলা শাখার নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের সঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার অ্যাসোসিয়েশনের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় গাজীপুরে খাবার দেওয়ার কথা বলে শিশুকে ধর্ষণ, ফুফা গ্রেপ্তার ১৪ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে খালু আলমগীর হোসেন আটক।

সাতক্ষীরায় অনুমোদনহীন ড্রিংকিং ওয়াটার কারখানার ছড়াছড়ি: জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে

বার্তা সম্পাদক / ২৩০ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই, ২০২৫

মোঃ আজগার আলী, সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরা জেলায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলছে বিএসটিআই (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন) অনুমোদনবিহীন ড্রিংকিং ওয়াটার উৎপাদনকারী কারখানা। এসব কারখানার বেশিরভাগেরই নেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্যানিটারি লাইসেন্স কিংবা কোনো প্রকার মান নিয়ন্ত্রণের সনদ। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ অস্বাস্থ্যকর পানি পান করে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।

গোপনে গজিয়ে উঠছে কারখানাঃ
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহর ও শহরতলির বিভিন্ন অলিগলিতে গড়ে উঠেছে এসব পানি শোধন ও বোতলজাতকরণ প্রতিষ্ঠান। কিছু কারখানা নামমাত্র লেবেল লাগিয়ে বোতলে ‘বিশুদ্ধ পানি’ বলে বাজারজাত করছে, কিন্তু বাস্তবে তাদের নেই আধুনিক যন্ত্রপাতি, ব্যাকটেরিয়া টেস্টিং ল্যাব বা প্রশিক্ষিত জনবল।

জনমনে উদ্বেগঃ
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “আমরা বিশ্বাস করে জারের পানি খাই, কিন্তু এখন শুনছি অনেক প্রতিষ্ঠান সরকারের অনুমোদন ছাড়াই চলছে। এতে আমরা আতঙ্কিত।”

প্রশাসনের নির্লিপ্ততা ও অভিযানঃ
স্বাস্থ্য বিভাগ ও বিএসটিআই সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরার অধিকাংশ পানির কারখানাই লাইসেন্সবিহীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, ড্রিংকিং ওয়াটার উৎপাদনের আগে বিএসটিআই অনুমোদন, পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ও স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি বাধ্যতামূলক। তবে অনেক প্রতিষ্ঠান এসব নিয়মের তোয়াক্কা না করেই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিভিন্ন সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে কিছু প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হলেও, তা কার্যকর প্রতিরোধে পরিণত হয়নি। যেমন ৮ মে চিশতিয়া ও সৌদিয়া ড্রিংকিং ওয়াটারকে এবং ৪ জুন আহিল ড্রিংকিং ওয়াটারকে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতঃ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “অস্বাস্থ্যকর পানি পান করলে টাইফয়েড, হেপাটাইটিস, কিডনি রোগ ও ডায়রিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ে। শিশু ও বয়স্কদের জন্য এসব ঝুঁকি আরও ভয়াবহ।”

নিরাপদ পানির নামে প্রতারণাঃ
এতসব নিয়মের তোয়াক্কা না করেই অনেক কারখানা ব্যবহার করছে বিএসটিআই-এর লোগো, বিভিন্ন চটকদার লেবেল ও ভুয়া তথ্যসমৃদ্ধ বিজ্ঞাপন। এতে প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ জনগণ।

লাইসেন্সের শর্তাবলীঃ
বিএসটিআই জানায়, সিএম লাইসেন্স পেতে হলে পণ্যের গায়ে অবশ্যই উল্লেখ থাকতে হবে—প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা, উৎপাদন ও মেয়াদ শেষের তারিখ, ওজন, মিনারেল কম্পোজিশন, ব্যাচ নম্বর, মূল্যসহ অন্যান্য তথ্য। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই ল্যাব, প্রশিক্ষিত কেমিস্ট, উৎপাদন যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকতে হয়।

বাস্তব চিত্র: অধিকাংশই মানছে না নিয়মঃ
সাতক্ষীরার অধিকাংশ পানি কারখানাই এসব শর্ত মানছে না। প্রশাসনের অভিযানে তাদের সাময়িক জরিমানা করা হলেও, তারা আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে।

অনুমোদনবিহীন কারখানার তালিকাঃ (বিআইএসটিআই লাইসেন্স বিহীন):
আহিল, সুরমা, চিশতিয়া, সৌদিয়া, আল মক্কা, আরাফাত, আল কাওছার, উষা, গিতাঞ্জলি, শাপলা, অর্নিবান, তৃপ্তি, একোয়া, আল্লাহর দান, রসমো, মিষ্টি, বর্ষা, এ-ফ্রেশ, শীতল, মার্জিয়া, বৃষ্টি, জমজম, নিউ সাতক্ষীরা, পিপাসা, মাওয়া, তাজা, জান পিউর, এম.কে মিনারেল।

অনুমোদিত কারখানাঃ
রিমঝিম, হক, তাহা, শর্মি, ঋশিল্পী, উত্তরণ ড্রিংকিং ওয়াটার।

লাইসেন্স প্রক্রিয়াধীন কারখানাঃ
মাহিম, তৌফিক, সাফা মক্কা, ঝর্ণা ড্রিংকিং ওয়াটার।

সাধারণ মানুষের আহ্বানঃ
সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের দাবি, এসব অনিয়ম বন্ধে নিয়মিত মনিটরিং, অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সর্বোপরি, নিরাপদ পানির অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন হতে হবে। বোতল কেনার আগে বিএসটিআই সনদ, মেয়াদ এবং উপাদান যাচাই করা এখন সময়ের দাবি।


এই বিভাগের আরও খবর

BROWSE BY TAG

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com